fbpx

জ্ঞাতি সম্পর্ক কি?

প্রশ্নঃ জ্ঞাতি সম্পর্ক কি?

ভূমিকা: আদি মানব সমাজ থেকে আরম্ভ করে বর্তমান সময় পর্যন্ত সামাজিক সংগঠন গুলোর মধ্যে যে কয়টি প্রতিপাদ্য বিষয় নৃ-বিজ্ঞানকে সমৃদ্ধ করেছে  জ্ঞাতিসম্পর্ক তার মধ্যে অন্যতম। রক্তের মাধ্যমে এবং বৈবাহিক সম্পর্কের মাধ্যমে মানুষের মাঝে যে সম্পর্কের সৃষ্টি হয় তাই জ্ঞাতি সম্পর্ক। সমাজ জীবনে মানুষের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণের, সামাজিক দল গঠনে জ্ঞাতি সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

জ্ঞাতিসম্পর্ক: ইংরেজি kin এর আভিধানিক অর্থ গোষ্ঠী, কুটুম্ব, জাতি। এই kin থেকেই kinship এর উৎপত্তি। আর kinship শব্দের অর্থ হলো জ্ঞাতিসম্পর্ক, রক্তসম্পর্ক বা আত্মীয়তার সম্পর্ক।

আরো পড়ুনঃ প্রজননশীলতা ও মরণশীলতা কী?

প্রামাণ্য সংজ্ঞা

Robertson তার ‘sociology’ গ্রন্থে বলেন, “জ্ঞাতি সম্পর্ক হচ্ছে ওইসব ব্যক্তির মধ্যকার এক সম্পর্কের জাল বিশেষ যাহারা সাধারন পূর্বপুরুষের উত্তরসূরি হিসেবে দত্ত গ্রহণের মাধ্যমে অথবা বৈবাহিক সূত্রে আবদ্ধ।”

রবিন ফক্স এর মতে, “জ্ঞাতি সম্পর্ক বলতে কেবল আত্মীয়-স্বজন বা জ্ঞাতিজনের  মধ্যকার সম্পর্ককে বোঝায়।”

বিদ্যাভূষণ তার ‘dictionary of sociology’ তে উল্লেখ করেছেন, “the social relationships deriving from blood ties (real and supponed) and marriage are collectively referred to as kinship.”

Alfred Radcliffe-Brown  জ্ঞাতি সম্পর্কের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন, “যখন আমরা জ্ঞাতি বা আত্মীয়ের কথা বলি তখন এমন একটা ধারণা জাগে যে সে জাতির সাথে আমরা কোন এক বিশেষ বন্ধনে আবদ্ধ।”

রিভার্সের মতে, “জ্ঞাতি সম্পর্ক হচ্ছে জৈবিক বন্ধনের সামাজিক স্বীকৃতি।”

জ্ঞাতি সম্পর্কের ধরণ:

আরো পড়ুনঃ পল্লী উন্নয়ন বলতে কি বুঝ?

রক্তের সম্পর্ক:  জন্মের মাধ্যমে গড়ে ওঠা সম্পর্ক, যেমন বাবা-মা, ছেলে-মেয়ে, ভাই-বোন, দাদা-দাদি, নাতি-নাতনি ইত্যাদি।

বৈবাহিক সম্পর্ক:  বিবাহের মাধ্যমে গড়ে ওঠা সম্পর্ক, যেমন স্বামী-স্ত্রী, শাশুড়ি-বউ, জামাই-শ্বশুর ইত্যাদি।

প্রথাগত সম্পর্ক:  সমাজের রীতিনীতি অনুযায়ী গড়ে ওঠা সম্পর্ক, যেমন ঠাকুর-মা, ঠাকুর-দাদা, পিসি-মামা, ভাগ্নে-ভাগ্নি ইত্যাদি।

জ্ঞাতি সম্পর্কের গুরুত্ব:

আরো পড়ুনঃ প্রবেশন এবং প্যারোল কি? এদের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ কর।

সামাজিক নিরাপত্তা:  জ্ঞাতি সম্পর্ক মানুষকে সামাজিক নিরাপত্তা ও সহায়তা প্রদান করে।

সামাজিকীকরণ:  জ্ঞাতি সম্পর্কের মাধ্যমে শিশুরা সামাজিক রীতিনীতি, নিয়মকানুন, এবং মূল্যবোধ খুব সহজে আয়ত্ত করতে পারে।

সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য:  জ্ঞাতি সম্পর্কের মাধ্যমে একটি সমাজের ঐতিহ্য, রীতিনীতি, এবং সংস্কৃতি পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে প্রবাহিত হয়।

উপসংহার: উপরোক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে জ্ঞাতি সম্পর্ক কে আমরা সামাজিক সংগঠনের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হিসেবে বিবেচনা করতে পারি। যা সমাজ জীবনে একটি নিয়ন্ত্রিত প্রথা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

ফেসবুক পেইজ

কোর্স টপিক